ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় বড় রদবদল, ফিরলেন আসলাম চৌধুরী
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে নিজেদের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-১০ এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে আগের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): এই আসনে গত ৩ নভেম্বর উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তন এনে এবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং হেভিওয়েট নেতা মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়েছে। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াই শেষে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী মাঠে ফেরা সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর): শুরুতে এই আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হলেও বর্তমান সিদ্ধান্তে সেখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আসনে এখন নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাইদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): এর আগে এই আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। নতুন তালিকা অনুযায়ী, হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ এর পরিবর্তে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচনের টিকিট দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের এই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাজনীতি জাতীয় রাজনীতিতে সবসময়ই দিকনির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
১৯৫০-এর দশক: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে চট্টগ্রামের নেতাদের সাহসী ভূমিকা ছিল তৎকালীন মুসলিম লীগের আধিপত্য ভাঙার প্রথম ধাপ।
১৯৭০-এর নির্বাচন ও স্বাধীনতা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের নিরঙ্কুশ সমর্থনই স্বাধীনতার ভিত্তি মজবুত করে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ।
বিএনপির উত্থান ও চট্টগ্রাম: ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর চট্টগ্রাম সবসময়ই দলটির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও চট্টগ্রামের বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা ছিল উত্তাল।
১৯৯১-২০০৮: ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনগুলোতে বিএনপি অভাবনীয় সাফল্য পায়। বিশেষ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই অঞ্চলে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক মজবুতি নিশ্চিত করেন।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫-এর বাস্তবতা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এই শেষ প্রান্তে এসে বিএনপি তাদের ঘর গোছানোর মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ ও নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের নেতৃত্ব সুসংহত করার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসলাম চৌধুরীর মতো নেতাকে ফিরিয়ে আনা এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএনপি মূলত বিজয় নিশ্চিত করতে চায়। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্যাতন ও জেল-জুলুমের পর নেতাকর্মীদের মধ্যে যে হতাশা ছিল, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন সেই নেতাকর্মীদের পুনরায় সক্রিয় করবে।
সূত্র: ১. বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সেল। ২. বিএসএস (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) ও প্রথম আলো অনলাইন আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস ও জেলা গেজেটিয়ার (১৯৭১-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |